❤️ প্রেম মানে না ধনী-গরীব
চরিত্র: প্রিয়া ও পিকে
পর্ব – ২ : পরিচয়ের শুরু
সপ্তাহখানেক কেটে গেছে।
প্রিয়া চেষ্টা করেছে পিকেকে ভুলে যেতে।
সে নিজেকেই বোঝাতে চেয়েছে—এ তো কেবলই এক চাহনি! এমন তো হয়…
তবু—পিকের মুখটা কেন যেন বারবার মনে পড়ে যায়।
ক্লাসে বসে, মুভি দেখতে গিয়ে, এমনকি ঘুমানোর আগে!
অন্যদিকে পিকেও ভুলতে পারছে না সেই চোখজোড়া—যেখানে ছিল প্রশ্ন, কৌতূহল, আর কিছুটা অভিমান যেন।
আজ শুক্রবার। ধানমণ্ডির সেই পরিচিত ক্যাফেতে আবার এসেছে পিকে—একজন নিয়মিত কাস্টমারের অর্ডার ডেলিভারি নিতে।
ভেতরে ঢুকেই চোখে পড়ল প্রিয়াকে—
আজও একই টেবিলে বসে, চোখ ল্যাপটপে, কিন্তু মন… অন্য কোথাও।
পিকে একটু দ্বিধায় পড়ে গেল।
যাবেন? যাবেন না?
একটু দাঁড়িয়ে থাকতেই প্রিয়া মাথা তুলে তাকাল।
চোখ মিলল।
এবার আর সরে আসেনি কেউ।
বরং প্রিয়া হালকা হাসল, বলল—
— “আসুন না, বসুন কিছুক্ষণ।”
পিকে অবাক!
সে বলল,
— “আমার তো কাজ আছে… ডেলিভারি…”
— “দু'মিনিট কিছু হবে না। আপনার চোখে চিন্তা দেখা যায়, কথা বললে হয়তো হালকা লাগবে।”
পিকের মুখে একটু হাসি ফুটল।
সে বসে পড়ল।
— “আপনার নাম?”
— “পিকে। শুধু এটুকুই। আর আপনি?”
— “প্রিয়া।”
এক কাপ চা এল টেবিলে।
চা'য়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, আর দুই অপরিচিত মানুষ, ধীরে ধীরে পরিচিত হচ্ছে।
প্রিয়া জিজ্ঞেস করল,
— “আপনি পড়াশোনা করেন, তাই না?”
— “হ্যাঁ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সমাজবিজ্ঞান। তৃতীয় বর্ষ। আর আপনার?”
— “আমি ধানমণ্ডির এক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্য পড়ছি।”
একটা দীর্ঘ বিরতি।
কথা যেন নিজের ছন্দে তৈরি হয়ে চলেছে।
প্রিয়া হঠাৎ বলল,
— “আপনার চোখে আমি একটা গল্প দেখি। জানি না ঠিক কী, কিন্তু স্পষ্ট বুঝি… আপনি সাধারণ নন।”
পিকে একটু চমকে গেল।
সাধারণ ছেলের জীবন, যেখানে বাঁচার চিন্তা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সময়ই নেই, সেখানে কেউ এভাবে তাকে "বিশেষ" বলবে—তা সে ভাবেনি।
চা শেষ হলো।
সময় বয়ে গেল কিছুটা নীরব, কিছুটা কথার মাঝে।
পিকে উঠে দাঁড়াল।
— “আজ চলি। আবার দেখা হবে হয়তো…”
প্রিয়া হেসে বলল,
— “হবে, অবশ্যই হবে।”
পিকে বেরিয়ে গেল, কিন্তু তার পায়ের ভার যেন হালকা।
প্রিয়ার মনে প্রথমবার খুব ছোট্ট কিন্তু স্পষ্ট একটা শব্দ জেগে উঠল—
"ভালো লাগা"।
(চলবে)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন